ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, প্রথম স্ত্রী কারাগারে

গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, প্রথম স্ত্রী কারাগারে
×

গাজী নজরুল ইসলাম

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪২ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এক দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করলে বিচারক এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মাকছুদাকে আটক রাখতে গতকাল আদালতে আবেদন করেছিলেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এটি মামলার তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুলকে ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সোমবার নজরুলকে চার দিন ও মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। মাকছুদার রিমান্ড শেষ হওয়ায় গতকাল তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজী নজরুল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন (রোববার) তিনি সকাল থেকে আদালতে ছিলেন। দুপুরে ন্যাম ভবনের বাসায় ফিরে দেখেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা থেকে আসা কয়েকজন সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছেন। দুপুরের খাবার শেষে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা চলে যাওয়ার পর ৫টার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামকে খোঁজ করতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ পান। এরপর কক্ষের জানালা দিয়ে তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল জানিয়েছেন, ওই দিন দুপুরে সাতক্ষীরা থেকে কয়েকজন তাঁর স্ত্রী মরিয়ামকে ভিডিওকলে দেখতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি ভিডিওকলে স্ত্রীকে দেখান। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন।

গভীর রাতে পৈতৃক বাড়িতে দাফন
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় শ্যামপুরের চৌদ্দরশি গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে মরিয়ামের মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে রাত ১১টায় মরদেহ বাড়ি পৌঁছালে তাঁর জানাজা হয়। জানাজায় গাজী নজরুলের পরিবারের কোনো সদস্য কিংবা জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকে অংশ নিতে দেখা যায়নি। শ্যামনগর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মাসখানেক আগে গাজী নজরুল রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামকে তোলেন। রোববার রাতে ওই বাসা থেকে মরিয়ামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়। গভীর রাতে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে নজরুল, মাকছুদা ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। ওই মামলায় নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। এদিন নজরুলকে চার দিন ও মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওবায়দুরকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি।

গাজী নজরুল জামায়াতে ইসলামীর হয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে মরিয়ামের সঙ্গে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার পর জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক মাধ্যমে ওই ভিডিওকে প্রথমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন। অবশ্য গাজী নজরুল নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানান, মরিয়াম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। 

গাজী নজরুল ফেসবুক পোস্টে বলেন, গত ১৩ জুলাই তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে যান। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিস। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিসে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুর রহমান গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের কক্ষে ঢোকেন। এরপর তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন। 

গাজী নজরুল পোস্টে বলেন, ‘পরে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুর আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।’ 
ভিডিওকাণ্ডের পর ২২ জুলাই নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।

আরও পড়ুন

×